সৌদি আরবে ইকামা ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া ২০২৫: প্রবাসীদের জন্য ধাপে ধাপে গাইড

Aerial photograph of Riyadh's modern cityscape with iconic skyscrapers and bustling streets.
Aerial photograph of Riyadh's modern cityscape with iconic skyscrapers and bustling streets.

Expat Bangla/Expat Guide/Saudi Arabia


সৌদি আরবে বসবাস বা কাজ করার জন্য ইকামা থাকা বাধ্যতামূলক। ২০২৫ সালে ইকামা ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় কিছু নতুন নিয়ম এবং ফি পরিবর্তন এসেছে। এই আর্টিকেলে আমরা ধাপে ধাপে দেখাবো কিভাবে ইকামা আবেদন করবেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, নবায়ন, পরিবার নিয়ে আসার নিয়ম, এবং গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা। প্রবাসীদের জন্য এটি হবে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সহজবোধ্য গাইড।

ইকামা কী

ইকামা হলো সৌদি আরবে বসবাসরত বিদেশিদের জন্য আবাসিক পরিচয়পত্র বা Residence Permit। এটি সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয় যাতে বিদেশি কর্মীরা বৈধভাবে সেখানে কাজ করতে ও বসবাস করতে পারেন।

ইকামার মাধ্যমে প্রবাসীরা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে, চিকিৎসা নিতে, মোবাইল সিম রেজিস্ট্রেশন করতে, সরকারি সেবা পেতে এবং দেশত্যাগ বা পুনঃপ্রবেশের সময় আইনগতভাবে পরিচয় প্রমাণ করতে পারেন।

সৌদি আরবে ইকামা ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় নিয়োগদাতা বা স্পন্সরের মাধ্যমে। তারা কর্মীর জন্য কাজের ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিট আবেদন করেন, যা অনুমোদনের পর ইকামায় রূপান্তরিত হয়।

ইকামা সাধারণত এক বছরের জন্য বৈধ থাকে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়ন করতে হয়। নবায়ন প্রক্রিয়া এখন অনলাইনে করা যায় Absher বা Muqeem পোর্টালের মাধ্যমে।

অফিসিয়াল লিংকসমূহ:

  • সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল সাইট: https://www.moi.gov.sa
  • আবশের প্ল্যাটফর্ম (অনলাইন সেবা): https://www.absher.sa

নিশ্চয়, কপিরাইট লঙ্ঘন না করে তোমার জন্য বিষয়টি বাংলা ভাষায় অনুবাদ করে দিচ্ছি:

যদি আপনি আপনার ইকামা কার্ড সঙ্গে না রাখেন, তাহলে আপনাকে ৩,০০০ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত জেল হতে পারে। এছাড়া, যদি আপনার ইকামা কার্ড হারানো বা চুরি হওয়ার ঘটনা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট না করেন, তাহলেও ৩,০০০ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আরও গুরুতর অপরাধের মধ্যে পড়েছে মেয়াদ শেষ হওয়া ইকামা নিয়ে সৌদি আরবে থাকা; এমন ক্ষেত্রে আপনাকে দেশ থেকে বহিষ্কৃতও করা যেতে পারে।

সৌদি আরবে ইকামা পাওয়ার প্রক্রিয়া

সৌদি আরবে ইকামা পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় নিয়োগদাতা বা কফিল (Sponsor) এর মাধ্যমে। বিদেশি কর্মীকে নিয়োগের পর কফিল তার জন্য কাজের ভিসা ও ইকামা আবেদন করে। নিচে ধাপে ধাপে ইকামা পাওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়া দেওয়া হলো:

১. ভিসা অনুমোদন ও প্রবেশ
প্রথমে নিয়োগদাতা সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমে কাজের ভিসা অনুমোদন নেন। কর্মী সেই ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশ করেন।

২. মেডিকেল পরীক্ষা
দেশে পৌঁছানোর পর কর্মীকে সৌদি সরকারের নির্ধারিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেডিকেল পরীক্ষা দিতে হয়। রিপোর্ট নেগেটিভ হলে ইকামা প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ শুরু হয়।

৩. ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও রেকর্ড আপডেট
প্রবাসীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা বায়োমেট্রিক তথ্য Jawazat (General Directorate of Passports) অফিসে রেজিস্টার করতে হয়। এটি ইকামা কার্ড ইস্যুর জন্য বাধ্যতামূলক ধাপ।

৪. আবাসন ও ইনস্যুরেন্স তথ্য জমা
কর্মীর বাসস্থান ও স্বাস্থ্যবীমা সংক্রান্ত তথ্য স্পন্সর বা কোম্পানি কর্তৃপক্ষ Absher বা Muqeem পোর্টালে আপলোড করে।

৫. ইকামা ফি জমা ও আবেদন সম্পন্ন
কাজের ধরণ অনুযায়ী ইকামা ফি জমা দিতে হয়। ফি জমা সম্পন্ন হলে স্পন্সর ইকামা ইস্যুর জন্য আবেদন করেন। অনুমোদন পাওয়া মাত্রই ইকামা কার্ড তৈরি হয় এবং কর্মী হাতে পান তার রেসিডেন্স পারমিট।

ইকামা ইস্যুতে সাধারণ সময়সীমা:
সম্পূর্ণ ডকুমেন্ট সঠিকভাবে জমা হলে সাধারণত ৭–১৪ কার্যদিবসের মধ্যে ইকামা ইস্যু হয়।

অফিসিয়াল লিংকসমূহ:

ইকামা আবেদন করার শর্ত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (২০২৫)

সৌদি আরবে ইকামা ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয় এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জমা দিতে হয়। ২০২৫ সালের জন্য সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয় ও জাওয়াজাতের নিয়ম অনুযায়ী নিচের বিষয়গুলো বাধ্যতামূলক:

ইকামা আবেদন করার প্রধান শর্তসমূহ:

  • আবেদনকারীকে বৈধ কর্ম ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হবে
  • কর্মীর মেডিকেল রিপোর্ট “ফিট” হতে হবে (অনুমোদিত হাসপাতাল থেকে)
  • নিয়োগদাতা বা কফিলের প্রতিষ্ঠানকে শ্রম মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত থাকতে হবে
  • কোম্পানির জন্য নির্ধারিত কোটা (Saudization / Nitaqat) মেনে চলা আবশ্যক
  • স্বাস্থ্যবীমা (Health Insurance) ইস্যু থাকা বাধ্যতামূলক
  • পাসপোর্টে কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদ থাকতে হবে

ইকামা আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
১. বৈধ পাসপোর্ট (মূল ও কপি)
২. কাজের ভিসা (Visa Slip)
৩. মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট
৪. চার কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে)
৫. নিয়োগপত্র বা চুক্তিপত্র (Employment Contract)
৬. কোম্পানির ট্রেড লাইসেন্স বা কমার্শিয়াল রেজিস্ট্রেশন (CR Copy)
৭. স্বাস্থ্যবীমা পলিসি নম্বর
৮. ইকামা ফি জমার রসিদ
৯. ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা বায়োমেট্রিক রেকর্ড

অতিরিক্ত পরামর্শ:
ইকামা আবেদন করার সময় সব তথ্য যেন পাসপোর্টের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। বানান বা ডেটা ভুল থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে এবং নতুন করে ফি দিতে হয়।

অফিসিয়াল লিংকসমূহ:

ইকামা নবায়নের নিয়ম ও ফি ২০২৫

সৌদি আরবে ইকামা ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইকামা সময়মতো নবায়ন করা। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে জরিমানা, জেল এমনকি বহিষ্কার পর্যন্ত হতে পারে। তাই ২০২৫ সালে ইকামা নবায়নের নতুন নিয়ম ও ফি সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি।

ইকামা নবায়নের সময়সীমা:

  • সাধারণত ইকামা এক বছরের জন্য দেওয়া হয়।
  • মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০ দিন আগে নবায়ন করা যায়।
  • ইকামা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ৩ দিনের বেশি বিলম্ব হলে জরিমানা প্রযোজ্য হয়।

২০২৫ সালের ইকামা নবায়নের ফি (সাধারণ হিসাব):

  • সরকারি ফি: ৬৫০ সৌদি রিয়াল
  • স্বাস্থ্যবীমা ফি: ৪০০–৭০০ রিয়াল (পরিবার ও পেশার ওপর নির্ভর করে)
  • শ্রম ফি (Work Permit): ৮০০–১২০০ রিয়াল প্রতি মাস
  • নির্ভরশীল পরিবারের জন্য প্রতি সদস্যে: ৪০০ রিয়াল মাসিক

ইকামা নবায়নের অনলাইন প্রক্রিয়া (Absher / Muqeem):

১. Absher.sa ওয়েবসাইটে লগইন করুন
২. “Employees Services” বা “Renew Iqama” অপশন সিলেক্ট করুন
৩. ইকামা নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নবায়ন আবেদন করুন
৪. সঠিক ফি জমা নিশ্চিত করুন (SADAD বা ব্যাংক পেমেন্টের মাধ্যমে)
৫. আবেদন সম্পন্ন হলে নতুন ইকামা কার্ড প্রিন্ট করে সংগ্রহ করুন

বিলম্বে নবায়নের জরিমানা:

  • প্রথমবার বিলম্বে নবায়ন করলে ৫০০ রিয়াল জরিমানা
  • দ্বিতীয়বার বিলম্বে ১,০০০ রিয়াল জরিমানা
  • তৃতীয়বার মেয়াদোত্তীর্ণ ইকামা ধরা পড়লে গ্রেফতার বা ডিপোর্টেশন হতে পারে

অফিসিয়াল লিংকসমূহ:

ইকামা হারালে বা চুরি হলে করণীয়

সৌদি আরবে ইকামা ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এটি সবসময় নিজের সঙ্গে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইকামা হলো প্রবাসীর পরিচয়ের মূল প্রমাণপত্র। যদি এটি হারিয়ে যায় বা চুরি হয়, তাহলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট না করলে বড় ধরনের জরিমানা এমনকি জেল পর্যন্ত হতে পারে।

ইকামা হারানো বা চুরি হলে যা করবেন:

১. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট করুন
ইকামা হারানো বা চুরি হওয়ার ঘটনা অবশ্যই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে রিপোর্ট করতে হবে। রিপোর্টের একটি কপি (Police Report) সংরক্ষণ করুন — এটি নতুন ইকামা ইস্যুর জন্য বাধ্যতামূলক।

২. স্পন্সর বা কফিলকে অবহিত করুন
আপনার কোম্পানি বা কফিলকে ঘটনাটি জানান, কারণ ইকামা পুনরায় ইস্যুর আবেদন শুধুমাত্র তারাই করতে পারে।

৩. আবশের (Absher) প্ল্যাটফর্মে আবেদন করুন

  • কফিল বা কোম্পানি Absher.sa তে লগইন করবে
  • “Employees Services” > “Replace Iqama” অপশন সিলেক্ট করবে
  • হারানোর কারণ ও রিপোর্টের নম্বর আপলোড করবে
  • পুনরায় ইস্যু ফি জমা দেবে

৪. নতুন ইকামা সংগ্রহ করুন
আবেদন অনুমোদন হলে নতুন ইকামা কার্ড সাধারণত ৩–৫ কার্যদিবসের মধ্যে জাওয়াজাত অফিস থেকে পাওয়া যায়।

ইকামা হারানো বা রিপোর্ট না করলে সম্ভাব্য জরিমানা:

  • সময়মতো রিপোর্ট না করলে জরিমানা ১,০০০–৩,০০০ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে
  • একই ঘটনা বারবার ঘটলে শাস্তি হিসেবে ৬ মাস পর্যন্ত জেল বা বহিষ্কার হতে পারে

গুরুত্বপূর্ণ টিপস:

  • ইকামার ফটোকপি বা স্ক্যান কপি সবসময় নিজের ইমেইল বা ক্লাউডে রাখুন
  • কোনো অবস্থায় অন্যের ইকামা ব্যবহার করবেন না — এটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়

অফিসিয়াল লিংকসমূহ:

সৌদি আরবে নির্ভরশীলদের (ফ্যামিলি) জন্য ইকামা পাওয়ার নিয়ম

সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে তাদের পরিবার বা নির্ভরশীল সদস্যদের জন্যও ইকামা (Family Iqama) নিতে পারেন। ২০২৫ সালের নিয়ম অনুযায়ী পরিবার নিয়ে আসতে হলে স্পন্সর বা প্রধান কর্মীর ইকামা বৈধ, পেশা অনুমোদিত এবং পর্যাপ্ত বেতন থাকতে হবে।

ফ্যামিলি ইকামা পাওয়ার প্রধান শর্তসমূহ:

  • মূল প্রবাসীর (স্পন্সর) ইকামা বৈধ হতে হবে
  • মাসিক বেতন কমপক্ষে ৫,০০০ সৌদি রিয়াল বা তার বেশি হতে হবে
  • পেশা এমন হতে হবে যেখানে পরিবার আনতে অনুমতি রয়েছে (যেমন ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাকাউন্টেন্ট, ডাক্তার ইত্যাদি)
  • বাসস্থান (হাউজিং) ও স্বাস্থ্যবীমার কাগজ থাকতে হবে
  • পাসপোর্টে ন্যূনতম ৬ মাসের মেয়াদ থাকতে হবে

নির্ভরশীলদের জন্য ইকামা পাওয়ার ধাপসমূহ:

১. ফ্যামিলি ভিসা অনুমোদন (Family Visa Approval)
প্রথমে আবশের বা সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOFA) ওয়েবসাইটে গিয়ে ফ্যামিলি ভিসা আবেদন করতে হয়। অনুমোদন পেলে পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ বা অন্য দেশ থেকে ভিসা নিয়ে সৌদিতে প্রবেশ করেন।

২. মেডিকেল টেস্ট
পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে সৌদি সরকারের অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষা দিতে হয়। রিপোর্ট নেগেটিভ হলে ইকামা আবেদন করা যায়।

৩. ইকামা আবেদন জমা
প্রবেশের পর কোম্পানি বা স্পন্সর নির্ভরশীলদের তথ্য Muqeem বা Absher পোর্টালে আপলোড করে ইকামা ইস্যুর আবেদন করেন।

৪. ফি ও ডকুমেন্ট জমা
নির্ভরশীল প্রতি সদস্যের জন্য নির্দিষ্ট ফি জমা দিতে হয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন—

  • মূল প্রবাসীর ইকামা কপি
  • পাসপোর্ট কপি
  • ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড)
  • স্বাস্থ্যবীমা প্রমাণপত্র
  • ফি জমার রসিদ
    জমা সম্পন্ন হলে ইকামা ইস্যু হয়।

২০২৫ সালের ফ্যামিলি ইকামা ফি (গড় হিসাবে):

  • সরকারি ফি: ৫০০–৬০০ রিয়াল প্রতি বছর
  • নির্ভরশীল ট্যাক্স (Dependent Fee): ৪০০ রিয়াল প্রতি মাসে প্রতি সদস্যের জন্য
  • স্বাস্থ্যবীমা ফি: বয়স ও প্যাকেজ অনুযায়ী ৪০০–৮০০ রিয়াল

অফিসিয়াল লিংকসমূহ:


ইকামার সীমাবদ্ধতা

সৌদি আরবে ইকামা ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রবাসীরা বৈধভাবে কাজ ও বসবাসের সুযোগ পান। তবে ইকামা থাকলেও কিছু সীমাবদ্ধতা বা নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যা না মানলে আইনি জটিলতা বা জরিমানা হতে পারে।

১. স্পন্সর পরিবর্তনের সীমাবদ্ধতা
ইকামাধারী কর্মী নিজের ইচ্ছায় সহজে স্পন্সর (কফিল) পরিবর্তন করতে পারেন না। এর জন্য সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। অনুমতি ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করা আইনত অপরাধ।

২. নির্ধারিত কাজের বাইরে কাজ করা নিষিদ্ধ
ইকামায় যে পেশা বা কাজের ধরন উল্লেখ থাকে, শুধুমাত্র সেই কাজ করাই বৈধ। অন্য ধরনের কাজ বা পার্টটাইম কাজ করলে জরিমানা বা ডিপোর্টেশন হতে পারে।

৩. মেয়াদোত্তীর্ণ ইকামা নিয়ে থাকা আইনত দণ্ডনীয়
ইকামা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নবায়ন না করলে সেটি অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ ইকামা নিয়ে ধরা পড়লে ১,০০০ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা, জেল এবং বহিষ্কারের ঝুঁকি থাকে।

৪. ব্যক্তিগত ব্যবসা বা ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করা নিষিদ্ধ
ইকামা থাকলেও কর্মী কোনো ব্যবসা, দোকান বা বাণিজ্যিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন না যদি না তার নামে সৌদি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ট্রেড লাইসেন্স থাকে।

৫. পরিবার স্পনসরশিপে সীমাবদ্ধতা
সব পেশায় পরিবার আনার অনুমতি নেই। শুধু নির্দিষ্ট পেশাগুলোকেই ফ্যামিলি স্পনসরশিপের সুযোগ দেওয়া হয়। নিম্নপদে কর্মরত বা হাউজহোল্ড পেশায় থাকা প্রবাসীরা সাধারণত এই সুবিধা পান না।

৬. সৌদি নাগরিকের মতো অধিকার নেই
ইকামাধারীরা সৌদি নাগরিকদের মতো স্থায়ী বসবাস, সরকারি চাকরি, ভোটাধিকার বা সামাজিক সুবিধা পান না। ইকামা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট মেয়াদে বৈধ আবাসিক অনুমতি।

অফিসিয়াল লিংকসমূহ:

ভিসা ছাড়া সৌদি আরবে কাজ করলে কী হয়

সৌদি আরবে ইকামা ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রতিটি প্রবাসীর জন্য বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক সময় কিছু মানুষ বৈধ ভিসা বা ইকামা ছাড়া কাজ করার চেষ্টা করেন — যা সৌদি আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

২০২৫ সালের সৌদি শ্রম আইন অনুযায়ী, বৈধ ইকামা বা কর্ম ভিসা ছাড়া কাজ করা ব্যক্তি এবং যিনি তাকে কাজ দিয়েছেন, উভয়ের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ভিসা ছাড়া কাজ করলে সম্ভাব্য শাস্তিসমূহ:

  • জরিমানা: ১০,০০০ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
  • জেল: সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
  • বহিষ্কার (Deportation): শাস্তি শেষে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং ভবিষ্যতে সৌদিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
  • স্পন্সরের শাস্তি: যে ব্যক্তি অবৈধ কর্মী নিয়োগ দেন, তার ওপরও ১ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা ও ব্যবসা বন্ধের শাস্তি হতে পারে।

জাওয়াজাত (Jawazat) ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী:

  • বৈধ ইকামা বা ভিসা ছাড়া কাজ করা, অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা, বা অন্যের নামে ব্যবসা চালানো—সবই আইনবিরোধী।
  • ইকামা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলে সেটি নবায়ন না করে কাজ চালিয়ে যাওয়া অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়।

সতর্কতা ও পরামর্শ:

  • সৌদি আরবে কাজ শুরু করার আগে নিশ্চিত করুন যে আপনার ইকামা ও কর্ম ভিসা উভয়ই বৈধ।
  • কফিল বা কোম্পানি যদি আপনার ইকামা ইস্যুতে দেরি করে, তবে Absher–এ লগইন করে আপনার স্ট্যাটাস চেক করুন।
  • প্রয়োজন হলে জাওয়াজাত অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করুন বা সরকারি হেল্পলাইনে (৯৯২) তথ্য নিন।

অফিসিয়াল লিংকসমূহ:

সৌদি আরবে বিজনেস ভিজিট ভিসা

সৌদি আরবে ইকামা ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া মূলত দীর্ঘমেয়াদে বসবাস ও চাকরির জন্য হলেও, অনেকেই স্বল্পমেয়াদি কাজ বা ব্যবসায়িক সফরের উদ্দেশ্যে বিজনেস ভিজিট ভিসা (Business Visit Visa) নিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেন। এটি ইকামার বিকল্প নয়, বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়।

বিজনেস ভিজিট ভিসা কী:
বিজনেস ভিজিট ভিসা হলো সৌদি আরব সরকারের প্রদত্ত একটি স্বল্পমেয়াদি অনুমতি, যা বিদেশি কোম্পানির প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা, বা ব্যবসায়িক আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া হয়। এই ভিসায় কেউ স্থায়ীভাবে কাজ করতে পারেন না, শুধুমাত্র ব্যবসা সংক্রান্ত মিটিং, প্রশিক্ষণ বা প্রকল্প পরিদর্শন করা যায়।

বিজনেস ভিজিট ভিসার মেয়াদ ও ধরন (২০২৫):

  • সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা – ৩০ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৩ মাস পর্যন্ত বৈধ
  • মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা – ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত বৈধ (প্রতিবার সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থান করা যায়)

বিজনেস ভিজিট ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
১. বৈধ পাসপোর্ট (কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে)
২. সৌদি ব্যবসায়িক পার্টনার বা কোম্পানির আমন্ত্রণপত্র (Invitation Letter)
৩. ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যের প্রমাণ (কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন, অফিসিয়াল ইমেইল বা লেটারহেড)
৪. ভিসা আবেদন ফর্ম (অনলাইন পূরণ করতে হয়)
৫. পাসপোর্ট সাইজ ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে)
৬. ফি জমার রসিদ

বিজনেস ভিজিট ভিসা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া:
১. সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MOFA) এর ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করুন
২. আমন্ত্রণপত্র সংযুক্ত করে তথ্য পূরণ করুন
৩. আবেদন সম্পন্ন হলে নির্ধারিত সৌদি দূতাবাস বা ভিসা সেন্টারে সাক্ষাৎকার দিন
৪. ভিসা অনুমোদন হলে পাসপোর্টে ভিসা সিল প্রদান করা হয়

গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা:

  • এই ভিসায় স্থায়ী চাকরি বা কোনো প্রকার পারিশ্রমিকভিত্তিক কাজ করা যাবে না
  • বিজনেস ভিজিট ভিসা থেকে সরাসরি ইকামায় রূপান্তর সম্ভব নয় — এর জন্য আলাদা ওয়ার্ক ভিসা প্রয়োজন
  • মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা নিয়ে থাকা অবৈধ হিসেবে গণ্য হয় এবং জরিমানা হতে পারে

অফিসিয়াল লিংকসমূহ:

সৌদি আরবে শ্রম আইন ও কর্মপরিস্থিতি

সৌদি আরবে ইকামা ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করার পর প্রবাসীরা যে বিষয়টির মুখোমুখি হন তা হলো শ্রম আইন ও কর্মপরিস্থিতি। সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয় (MHRSD) প্রতি বছর নতুন নীতিমালা ও বিধি জারি করে যাতে প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও দায়িত্ব উভয়ই সুরক্ষিত থাকে।

১. কর্মচুক্তি ও নিয়োগ নীতি:

  • সৌদিতে প্রত্যেক কর্মীর একটি বৈধ লিখিত চাকরির চুক্তি (Employment Contract) থাকা আবশ্যক।
  • চুক্তিতে কাজের ধরন, সময়কাল, বেতন, ছুটি ও চাকরি ছাড়ার শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।
  • চুক্তি সাধারণত ১ থেকে ২ বছরের হয়, যা নবায়নযোগ্য।

২. কাজের সময় ও ছুটি:

  • দৈনিক সর্বোচ্চ কাজের সময় ৮ ঘণ্টা বা সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা নির্ধারিত।
  • রমজান মাসে মুসলমান কর্মীদের জন্য ৬ ঘণ্টা করে কাজের নিয়ম রয়েছে।
  • বছরে ন্যূনতম ২১ দিনের বেতনসহ ছুটি পাওয়ার অধিকার রয়েছে, যা ৫ বছর চাকরি শেষে ৩০ দিনে উন্নীত হয়।

৩. বেতন ও পেমেন্ট নিয়ম:

  • সকল বেতন Wage Protection System (WPS) এর মাধ্যমে ব্যাংকে প্রদান করতে হয়।
  • নির্ধারিত তারিখে বেতন না দিলে কোম্পানির বিরুদ্ধে জরিমানা বা লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
  • অতিরিক্ত সময় কাজ করলে কর্মীরা ওভারটাইম ভাতা পেয়ে থাকেন।

৪. স্বাস্থ্যসেবা ও বীমা:

  • প্রত্যেক প্রবাসী কর্মীর জন্য স্বাস্থ্য বীমা (Medical Insurance) বাধ্যতামূলক।
  • কোম্পানি কর্তৃপক্ষই সাধারণত বীমা খরচ বহন করে।
  • চিকিৎসা সংক্রান্ত সেবা নিতে হলে ইকামা ও ইনস্যুরেন্স কার্ড দেখাতে হয়।

৫. কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও অধিকার:

  • সৌদি শ্রম আইন অনুযায়ী, কর্মস্থলে বৈষম্য, নির্যাতন বা জোরপূর্বক শ্রমের শাস্তি কঠোর।
  • মহিলা কর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি (৭০ দিন) ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
  • কর্মীদের জন্য হটলাইন: ৯৯৮ (শ্রম মন্ত্রণালয় অভিযোগ সেবা)

৬. চাকরি পরিবর্তন ও এক্সিট রি-এন্ট্রি ভিসা:

  • ইকামা মেয়াদ বৈধ থাকলে প্রবাসীরা কফিলের অনুমতি নিয়ে চাকরি পরিবর্তন করতে পারেন।
  • এক্সিট রি-এন্ট্রি ভিসা নিতে হলে Absher বা কোম্পানির HR বিভাগে আবেদন করতে হয়।
  • অনুমতি ছাড়া চাকরি ত্যাগ করলে “হুরুব (逃亡)” হিসেবে গণ্য হয়, যা গুরুতর অপরাধ এবং ডিপোর্টেশনের কারণ হতে পারে।

৭. নারী ও বিদেশি শ্রমিকদের নতুন অধিকার (২০২৫ আপডেট):

  • সৌদি সরকার “Labor Reform Initiative” অনুযায়ী, এখন অনেক ক্ষেত্রে কর্মীরা কফিল ছাড়াই চাকরি পরিবর্তন বা দেশ ত্যাগের আবেদন করতে পারেন।
  • ন্যূনতম মজুরি (Minimum Wage) ৪,০০০ সৌদি রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • কর্মীদের ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে সহায়তার জন্য “Qiwa.sa” ও “Musaned.sa” পোর্টাল চালু রয়েছে।

অফিসিয়াল তথ্যসূত্র:


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *