২০২৫ সালে ক্রোয়েশিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট (Radna Dozvola) কিভাবে করবেন — সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

ক্রোয়েশিয়ায় ওয়ার্ক পারমিটের শর্তাবলি (Croatia Work Permit Conditions)

ক্রোয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রচুর কর্মীর প্রয়োজন পড়েছে। নির্মাণকাজ, পর্যটনসহ অনেক শিল্পক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জনবল নেই, ফলে শূন্য পদগুলো পূরণ করা যাচ্ছে না। এই কারণে ক্রোয়েশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করছে — কোনো বিদেশি কর্মীকে মৌসুমভিত্তিক বা দীর্ঘমেয়াদে নিয়োগ দেওয়া হয়, আর সরকার তাকে কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) প্রদান করে।

কর্মীর এই ঘাটতির একটি বড় কারণ হলো, অনেক তরুণ ক্রোয়াট নাগরিক অন্য ইইউ (EU) দেশে চলে যাচ্ছে, এবং অনেক ক্রোয়াট স্থানীয়ভাবে এই ধরনের কাজ করতে আগ্রহী নয়।

যদি আপনি কোনো নন-ইইউ (EU বহির্ভূত) দেশের নাগরিক হন, তাহলে আপনি ক্রোয়েশিয়ায় অবস্থান ও কাজের অনুমতির (Stay and Work Permit) জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে আপনি যদি ইইউ/ইইএ (EU/EEA) দেশের নাগরিক হন, তাহলে আপনার পরিস্থিতির জন্য অন্য পোস্টটি বেশি উপযুক্ত।

ওয়ার্ক পারমিট (Radna Dozvola) কী?

যদি তুমি ২০২৫ সালে ক্রোয়েশিয়ায় কাজ ও বসবাসের পরিকল্পনা করে থাকো, তাহলে তোমার প্রথম ধাপ হওয়া উচিত একটি ওয়ার্ক পারমিট বা Croatia Work Permit
রাদনা দোজভোলা (Radna Dozvola) নেওয়া।

এই লেখায় আমরা ধাপে ধাপে দেখব কীভাবে আবেদন করতে হয়, কী কী ডকুমেন্ট লাগে, কতদিন লাগে, এবং কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।

২০২৫ সালে ক্রোয়েশিয়া কয়েক ধরণের ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করে থাকে:

1. স্ট্যান্ডার্ড ওয়ার্ক পারমিট – স্থানীয় কোম্পানিতে ফুল-টাইম চাকরির জন্য।

2. সিজনাল ওয়ার্ক পারমিট – ট্যুরিজম, হোটেল বা কৃষিখাতে মৌসুমভিত্তিক কাজের জন্য (৩–৬   মাসের জন্য বৈধ)।

3. EU ব্লু কার্ড – উচ্চশিক্ষিত ও পেশাদার কর্মীদের জন্য।

4. স্টুডেন্ট ওয়ার্ক পারমিট – ক্রোয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বিদেশি ছাত্রদের জন্য।

5. ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা – বিদেশি কোম্পানিতে অনলাইনে কাজ করা রিমোট কর্মীদের জন্য।

ক্রোয়েশিয়ায় কারা ওয়ার্ক পারমিট পেতে পারে

ক্রোয়েশিয়ায় ওয়ার্ক পারমিটের শর্তাবলি
বিদেশিদের জন্য ক্রোয়েশিয়ায় চাকরির অনুমতি পাওয়ার নিয়ম

1. বিদেশি নাগরিক (Non-EU countries)

   ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের যেসব দেশের নাগরিক (যেমন বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ইত্যাদি), তারা ক্রোয়েশিয়ায় কাজ করতে চাইলে ওয়ার্ক পারমিট নিতে হয়।

2. চাকরির অফার থাকলে (Job Offer Required)

    ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার আগে আপনাকে অবশ্যই ক্রোয়েশিয়ার কোনো কোম্পানি বা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির অফার লেটার (Employment Contract) থাকতে হবে।

3. কোটা সিস্টেম অনুযায়ী (Quota or Non-Quota System)

    ক্রোয়েশিয়া সরকার প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক বিদেশি কর্মীর জন্য Croatia work visa for foreigners “Work Quota” নির্ধারণ করে।

    কিছু নির্দিষ্ট পেশা (যেমন আইটি, হোটেল, নির্মাণ, কৃষি ইত্যাদি) কোটা ছাড়া (Non-Quota) নিয়োগ দেওয়া যায়, সেক্ষেত্রে ওয়ার্ক পারমিট তুলনামূলক সহজে মেলে।

4. যোগ্যতা ও নথিপত্র (Qualifications & Documents)

   আবেদন করতে সাধারণত নিচের কাগজপত্র লাগে:

    বৈধ পাসপোর্ট

    চাকরির অফার লেটার বা চুক্তিপত্র

    শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতার সনদ

    পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট

    স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা মেডিকেল সার্টিফিকেট

    পাসপোর্ট সাইজ ছবি

5. যাদের রেসিডেন্স পারমিট আছে (Temporary Residence Permit)

    ওয়ার্ক পারমিট সাধারণত অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি (Temporary Stay) এর সঙ্গে একসঙ্গে দেওয়া হয়।

   অর্থাৎ, আপনি একবারে কাজ ও বসবাস দুটোর অনুমতি পান (যাকে বলা হয় “Single Permit for Stay and Work”)।

6. ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ (Validity)

    সাধারণত ১ বছরের জন্য দেওয়া হয়, পরে নবায়ন করা যায় যদি চাকরি থাকে।

 সংক্ষেপে

যদি আপনি ক্রোয়েশিয়ার বাইরে থেকে আসেন বৈধ চাকরির অফার পান, এবংপ্রয়োজনীয়কাগজপত্র

ঠিকঠাক থাকে —তাহলে আপনি ক্রোয়েশিয়ার ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্য।

কোথায় আবেদন করবে?

 ক্রোয়েশিয়ায় ওয়ার্ক পারমিটের শর্তাবলি (Croatia Work Permit Conditions)
বিদেশিদের জন্য ক্রোয়েশিয়ায় চাকরির অনুমতির নিয়ম

তুমি আবেদন করতে পারো দুইভাবে:

দেশের বাইরে থেকে – তোমার নিজ দেশের ক্রোয়েশিয়ান দূতাবাস বা কনস্যুলেটে।

ক্রোয়েশিয়ার ভিতরে থেকে– স্থানীয় MUP অফিসে (Ministarstvo unutarnjih poslov

 টিপ: প্রতিটি শহরে (Zagreb, Split, Rijeka, Zadar ইত্যাদি) প্রসেসিং টাইম আলাদা হতে পারে, তাই আগে থেকে জেনে নাও।

প্রসেসিং টাইম ও মেয়াদ

সাধারণত ৪ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগে পারমিট পেতে।

বেশিরভাগ পারমিটের মেয়াদ ১ বছর, পরবর্তীতে রিনিউ করা যায়।

সিজনাল পারমিট সাধারণত ৩–৬ মাসের হয়।

 ৬. ফি (২০২৫ সালের আনুমানিক খরচ)

ধরন  ফি (ইউরোতে)
আবেদন ফি  €46 
রেসিডেন্স কার্ড (বায়োমেট্রিক) €31
 দূতাবাস/কনস্যুলেট সার্ভিস দেশভেদে ভিন্ন

(দ্রষ্টব্য: MUP কর্তৃপক্ষের আপডেট অনুযায়ী ফি পরিবর্তন হতে পারে।)

   পারমিট নবায়ন (Renewal)

যদি চাকরি অব্যাহত থাকে বা নতুন নিয়োগদাতার সঙ্গে কাজ শুরু করো, তাহলে পারমিট নবায়ন করা যাবে।

 মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ৬০ দিন আগে আবেদন করো।

 নতুন চাকরির চুক্তি ও বাসস্থানের প্রমাণপত্র লাগবে।

 ট্যাক্স ও সামাজিক নিরাপত্তা (social contribution) আপডেট থাকতে হবে।

 যে কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে

 কাগজপত্র অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য

অবৈধ বা ভুয়া চাকরির অফার

 অনিবন্ধিত (unregistered) নিয়োগদাতা

চাকরির ধরন অনুযায়ী যোগ্যতা না থাকা

 তাই জমা দেওয়ার আগে সব ডকুমেন্ট ভালোভাবে যাচাই করে নাও।

 সফলভাবে পারমিট পাওয়ার টিপস (২০২৫ সংস্করণ)

পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে আবেদন করো — গ্রীষ্মকালে সময় বেশি লাগে।

 ক্রোয়েশিয়ান ভাষার কিছু মৌলিক শব্দ শিখে নাও — MUP অফিসে কাজে লাগে।

 যদি স্থানীয় e-Građani পোর্টাল ব্যবহার করতে পারো, তাহলে আপডেট অনলাইনে দেখতে পারবে।

 সব ডকুমেন্টের ফটোকপি নিজের কাছে রাখো।

২০২৫ সালে ক্রোয়েশিয়ায় কাজের সুযোগ দিন দিন বাড়ছে — বিশেষ করে হসপিটালিটি, কনস্ট্রাকশন, হেলথকেয়ার ও টেক সেক্টরে।

সঠিক নিয়মে ওয়ার্ক পারমিট (Radna Dozvola) করলে সহজেই বৈধভাবে কাজ শুরু করা সম্ভব।

তোমার যদি ক্রোয়েশিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট নেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে নিচে কমেন্টে শেয়ার করো — এতে অন্য এক্সপ্যাটদেরও সাহায্য হবে!


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *